০৭:২৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::

সীমান্তে লাউডস্পিকার চালু করছে উত্তর কোরিয়া, দক্ষিণ কোরিয়াকে হুঁশিয়ারি

বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৫৯ অপরাহ্ন · Shihab53

দক্ষিণ কোরিয়ার সীমান্তজুড়ে আবারও বিশালাকার লাউডস্পিকার চালুর ঘোষণা দিয়েছে উত্তর কোরিয়া। একই সঙ্গে সীমান্তে নতুন সামরিক অবস্থান ও প্রতিরক্ষাব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছে পিয়ংইয়ং। দক্ষিণ কোরিয়াকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের বোন কিম ইয়ো জং বলেছেন, দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ অব্যাহত রাখলে সিউলকে ভয়াবহ পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) জাপান টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, কিম ইয়ো জং এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, অক্টোবরের শেষ নাগাদ পুরো সীমান্তজুড়ে দক্ষিণ কোরিয়াবিরোধী লাউডস্পিকার সক্রিয় করা হবে।

এর আগে বুধবার রাতে জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে সীমান্তের সেনা দুর্গ ও প্রতিরক্ষাব্যবস্থা পরিদর্শন করেন কিম ইয়ো জং। এ সময় উত্তর কোরিয়ার কৌশলগত সামরিক ইউনিটগুলো সীমান্তে নতুন অবস্থান নিয়েছে বলেও জানান তিনি।

কিম ইয়ো জংয়ের অভিযোগ, দক্ষিণ কোরিয়ার সেনারা সীমান্ত এলাকায় উসকানিমূলক বার্তা সম্প্রচার করেছে এবং কয়েকটি স্থানে সতর্কতামূলক গুলি ছুড়েছে।

এসব গুলিতে উত্তর কোরিয়ার ভূখণ্ড বা কোনো সেনাসদস্য ক্ষতিগ্রস্ত হলে কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এমন পরিস্থিতিতে উত্তর কোরিয়ার বাহিনী বিনা দ্বিধায় প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে।

অন্যদিকে, দক্ষিণ কোরিয়া তাদের পদক্ষেপকে আইনসম্মত ও আত্মরক্ষামূলক বলে দাবি করেছে। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও একীভূতকরণ মন্ত্রণালয় উত্তর কোরিয়াকে আলোচনার টেবিলে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, জাতিসংঘ কমান্ডের (ইউএনসি) সহায়তায় অসামরিকীকৃত অঞ্চল বা ডিমিলিটারাইজড জোনে (ডিএমজেড) নিয়ন্ত্রণ জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কিম ইয়ো জংয়ের প্রতিক্রিয়াকে সিউলের এসব পদক্ষেপের কার্যকারিতার ইঙ্গিত হিসেবে দেখছে দেশটি।

তবে উত্তর কোরিয়া হুমকি বাস্তবায়ন করলে দক্ষিণ কোরিয়াও সমানুপাতিক ও উপযুক্ত জবাব দেবে বলে জানিয়েছে সিউল।

কিম ইয়ো জংয়ের এই হুঁশিয়ারিকে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ংয়ের দুই দেশের বৈরিতা কমানোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে দুই কোরিয়ার মধ্যে উত্তেজনা কমাতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে তাঁর প্রশাসন।

১৯৫০ থেকে ১৯৫৩ সালের কোরীয় যুদ্ধের পর যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে দুই দেশ পৃথক হয়ে যায়। এরপর থেকে ডিএমজেড সীমান্তে সামরিক উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। ঐতিহাসিকভাবে দুই দেশই সীমান্তে প্রচারযুদ্ধের অংশ হিসেবে বড় আকারের লাউডস্পিকার ব্যবহার করে আসছে। এসব লাউডস্পিকারের মাধ্যমে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে প্রচার চালানোর পাশাপাশি নিজ দেশের বক্তব্যও প্রচার করা হয়।

দক্ষিণ কোরিয়ার কিউংনাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক লিম উল-চুলের মতে, কিম ইয়ো জংয়ের হুমকির অর্থ এই নয় যে লাউডস্পিকারগুলো তাৎক্ষণিকভাবে চালু হয়ে যাবে। তবে এ ঘোষণা দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ংয়ের প্রশাসনের সামনে রাজনৈতিক ও সামরিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

সীমান্তে লাউডস্পিকার পুনরায় চালুর পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দুই কোরিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিনের প্রচারযুদ্ধ ও সামরিক উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আরো পড়ুন